বিশ্বকাপের মাঠে গোল করলেই গ্যালারিতে উল্লাস। মাঠের বাইরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও একই চিত্র। মিম, ভিডিও, গান কিংবা ভক্তদের পোস্ট—সবখানেই আলোচনায় নরওয়ের তারকা স্ট্রাইকার আর্লিং হাল্যান্ড ।
শুধু ফুটবলপ্রেমীই নন, খেলাধুলার সঙ্গে খুব একটা সম্পর্ক নেই—এমন অনেক মানুষের কাছেও তিনি সমান জনপ্রিয়। প্রশ্ন হলো, হাল্যান্ডকে নিয়ে এই উন্মাদনার কারণ কী?
মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, এর পেছনে শুধু তার ফুটবল প্রতিভা বা শারীরিক গঠনই নয়, মানুষের কিছু স্বাভাবিক মনস্তাত্ত্বিক প্রবণতাও কাজ করতে পারে।
শুধু শক্তিশালী হলেই হয় না
দীর্ঘদিন ধরেই গবেষণায় দেখা গেছে, শারীরিকভাবে সক্ষম পুরুষকে অনেকেই আকর্ষণীয় মনে করেন। তবে সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, শুধু শক্তিশালী হওয়াই যথেষ্ট নয়; সেই শক্তি অন্যকে রক্ষা করতে ব্যবহৃত হচ্ছে কিনা, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
মাঠে কর্নার বা ফ্রি-কিকের সময় সতীর্থদের আড়াল করে দাঁড়ানো, পড়ে যাওয়া খেলোয়াড়কে তুলে দেওয়া কিংবা প্রতিপক্ষের চোট লাগলে খোঁজ নেওয়ার মতো আচরণ অনেকের কাছে আর্লিং হাল্যান্ডকে আরও ইতিবাচকভাবে তুলে ধরে।
চাপের মধ্যেও শান্ত থাকা
একজন স্ট্রাইকার হিসেবে প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই প্রতিপক্ষের কঠোর ট্যাকলের শিকার হন হাল্যান্ড । কিন্তু বেশির ভাগ সময়ই তাকে পাল্টা উত্তেজিত হতে দেখা যায় না।
মনোবিজ্ঞানের গবেষণায় আত্মনিয়ন্ত্রণ ও আবেগ নিয়ন্ত্রণকে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কের জন্য আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়। হালান্ডের মাঠের আচরণ অনেক দর্শকের কাছে সেই ধারণাকেই শক্তিশালী করতে পারে।
দয়ালু মানুষের প্রতি আকর্ষণ বেশি
গবেষণায় বারবার দেখা গেছে, দয়ালু, সহানুভূতিশীল ও উদার মানুষকে অন্যরা তুলনামূলক বেশি আকর্ষণীয় মনে করেন।
ভক্তদের সঙ্গে হালান্ডের আচরণ, অটোগ্রাফ দেওয়া কিংবা ছবি তোলার মতো ঘটনাগুলো তাঁর সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা তৈরি করতে ভূমিকা রাখতে পারে।
বিশ্বস্ততার বার্তাও কি কাজ করে?
দীর্ঘদিনের সঙ্গী ও পরিবারকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টিও মানুষের চোখ এড়ায় না।
মনোবিজ্ঞানে বিশ্বস্ততাকে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কের অন্যতম আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য হিসেবে ধরা হয়। হালান্ডের ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে মানুষের যে ধারণা তৈরি হয়েছে, সেটিও তার জনপ্রিয়তা বাড়ানোর একটি কারণ হতে পারে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
হাসাতে পারার ক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ
মাঠের বাইরেও হালান্ডের মজার ভিডিও, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রসিকতা কিংবা হালকা মেজাজের উপস্থিতি তাঁকে আরও জনপ্রিয় করে তুলেছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, রসবোধ একজন মানুষকে শুধু আনন্দদায়কই নয়, বরং আরও আকর্ষণীয় বলেও মনে করাতে পারে। অনেক গবেষকের মতে, হাস্যরস সৃজনশীলতা ও সমস্যা সমাধানের সক্ষমতারও ইঙ্গিত বহন করে।
শুধু গোল নয়, ব্যক্তিত্বও
বিশেষজ্ঞদের মতে, হালান্ডকে নিয়ে মানুষের আকর্ষণের পেছনে শুধু তার গোল করার দক্ষতা বা শারীরিক গঠন কাজ করছে না। বরং মাঠে ও মাঠের বাইরে তার শক্তি, আত্মনিয়ন্ত্রণ, দয়ালু আচরণ, বিশ্বস্ততার ভাবমূর্তি এবং রসবোধ—সব মিলিয়েই তাঁর প্রতি মানুষের ইতিবাচক ধারণা তৈরি হচ্ছে।
অবশ্য গবেষকরা এটিও মনে করিয়ে দেন, এসব ব্যাখ্যা মূলত জনসমক্ষে দেখা আচরণের ওপর ভিত্তি করে। ব্যক্তিগত জীবনে একজন মানুষ ঠিক কেমন, তা নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। তবে মানুষের কাছে যে বৈশিষ্ট্যগুলো সাধারণভাবে আকর্ষণীয় বলে বিবেচিত হয়, হালান্ডের ক্ষেত্রে সেগুলোর অনেকগুলোই একসঙ্গে দেখা যায় বলেই হয়তো বিশ্বজুড়ে তার জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে।
